স্বাধীনতা কবিতার প্রশ্ন উত্তর / অষ্টম শ্রেণী বাংলা / ল্যাংস্টন হিউজ

এখানে স্বাধীনতা কবিতার প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হলো। / অষ্টম শ্রেণী বাংলা / ল্যাংস্টন হিউজ

স্বাধীনতা কবিতার হাতেকলমে প্রশ্ন উত্তর / অষ্টম শ্রেণী বাংলা

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১.১ ল্যাংস্টন হিউজের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম The Weary Blues (১৯২৬)।

১.২ তিনি কোন্ দেশের রেনেসাঁসের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত?

উত্তর: কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সমাজকর্মী ল্যাংস্টন হিউজ বিংশ শতকের কুড়ির দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারলেম রেনেসাঁসের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত।

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো।
২.১ স্বাধীনতা বলতে কী বোঝ? কী কী বিষয়ে মানুষের স্বাধীনতা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো?

উত্তর: ‘স্বাধীনতা’ শব্দের অর্থ হলো নিজের অধীনে থাকা। স্বাতন্ত্র্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের অনুভূতিই স্বাধীনতার আসল সারমর্ম। দেশের স্বাধীনতা বলতে বোঝায়—বিজাতির অধীনে না থেকে নিজের মতো করে কাজ করা ও বাঁচার অধিকার অর্জন করা। ‘স্বাধীন’ (বিগ) শব্দ থেকেই ‘স্বাধীনতা’ (বি) শব্দটির উৎপত্তি।

মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা একান্ত জরুরি। এই মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ হলেই মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

২.২ মানুষ পরাধীন হয় কখন?

উত্তর: মানুষ তখনই পরাধীন হয় যখন তাকে অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রশক্তির অধীনতা স্বীকার করতে হয়। অর্থাৎ নিজের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে অন্যের বশ্যতা মেনে নিতে বাধ্য হলে মানুষ পরাধীন হয়ে পড়ে।

২.৩ পরাধীন মানুষের স্বাধীনতা পাওয়ার পথগুলি কী কী?

উত্তর: পরাধীন মানুষ নিজের মানসিক শক্তি ফিরে পেয়ে এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করে স্বাধীনতা লাভের পথে এগোতে পারে। একইসঙ্গে অন্য পরাধীন মানুষদেরও বিশ্বাস ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করতে হয়।

স্বাধীনতা অর্জনের দুটি পথ রয়েছে—
১. শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার।
২. যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা।
এক্ষেত্রে জাতীয়তাবোধ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে আন্দোলনে দৃঢ় রাখে।

২.৪ ‘স্বাধীনতা’ কবিতাটির মধ্যে দুটি ‘পক্ষ’ আছে—‘আমি-পক্ষ’ আর ‘তুমি-পক্ষ’। এই ‘আমি-পক্ষ’ আর ‘তুমি-পক্ষ’-এর স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। এই ক্ষেত্রে ‘সে-পক্ষ’ নেই কেন?

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজ রচিত ‘স্বাধীনতা’ কবিতায় দুটি পক্ষ বিদ্যমান—

‘আমি-পক্ষ’ : এটি পরাধীন মানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতীক।

‘তুমি-পক্ষ’ : এটি সেই সাম্রাজ্যবাদী বা শাসক শক্তির প্রতীক, যারা মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।

কবিতায় পরাধীন মানুষ সরাসরি তার স্বাধীনতা-হরণকারীকে অভিযুক্ত করেছে। তাই এখানে শুধু অভিযোগকারী (পরাধীন মানুষ) ও অভিযুক্ত (শাসক শক্তি)—এই দুই পক্ষের উপস্থিতি রয়েছে। ‘সে-পক্ষ’ নেই, কারণ মধ্যস্থতাকারী বা নিরপেক্ষ কোনো শক্তির প্রয়োজন এই কবিতায় হয়নি।

২.৫ “সময়ে/সবই হবে, কাল একটা নূতন দিন”—এই কবিতার মধ্যে উদ্ধৃত কথাটি কার/কাদের কথা বলে মনে হয়? তারা এ ধরনের কথা বলেন কেন?

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজের ‘স্বাধীনতা’ কবিতার এই উক্তিটি শাসকগোষ্ঠী অথবা তাদের অনুগত কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিকদের কথা।

তারা এ ধরনের আশ্বাস দিয়ে পরাধীন মানুষকে প্রতিবাদ ও আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে চায়। কিন্তু শোষিত মানুষ এই কথায় বিভ্রান্ত হয় না, কারণ এ ধরনের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি তারা বহুবার শুনেছে। তাই তারা সময়ের ওপর নির্ভর না করে আন্দোলন ও বিপ্লবের মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, প্রতিটি দেশেই স্বাধীনতা সংগ্রাম এভাবেই গড়ে উঠেছে এবং মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে মুক্তি লাভ করেছে।

২.৬ “আগামীকালের রুটি দিয়ে কি আজ বাঁচা যায়”—এখানে ‘আগামীকাল’ আর ‘আজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজ রচিত ‘স্বাধীনতা’ কবিতার আলোচ্য পঙ্ক্তিতে—

‘আগামীকাল’ বলতে বোঝানো হয়েছে ভবিষ্যতের স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। “আগামীকালের রুটি” হলো স্বাধীনতা অর্জনের সেই আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু শুধু ভবিষ্যতের স্বপ্নে ডুবে থেকে পরাধীন জাতির পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। স্বাধীনতা কেবল প্রতীক্ষায় নয়, সংগঠিত প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

‘আজ’ বলতে বোঝানো হয়েছে বর্তমান পরাধীন অবস্থাকে। যেখানে মানুষ অপমানিত, অধিকারবঞ্চিত এবং মানবতাহীন জীবনে কষ্ট পাচ্ছে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন—ভবিষ্যতের শূন্য আশ্বাসে আজকের বাস্তব দুঃখ-যন্ত্রণা লাঘব হয় না। তাই আজকের দিনেই স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া প্রয়োজন।

৩. নিম্নলিখিত পঙ্ক্তিগুলির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
৩.১ “মৃত্যুর পরে তো আমার… প্রয়োজন হবে না।” —পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: মার্কিন কবি ল্যাংস্টন হিউজের ‘স্বাধীনতা’ কবিতার উদ্ধৃত এই লাইনটির মধ্যে স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য প্রকাশিত হয়েছে।

পরাধীন অবস্থায় বেঁচে থাকা মানে অপমান, গ্লানি ও আত্মমর্যাদাহীন জীবন যাপন করা। দাসত্বের শৃঙ্খলে বেঁচে থাকাই একরকম মৃত্যুর সমান। জীবিত মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা গভীরভাবে প্রোথিত থাকে। মৃত মানুষের কোনো অনুভূতি নেই, তাই মৃত্যুর পরে স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না।

এই পঙ্ক্তিতে কবি বলতে চেয়েছেন—স্বাধীনতা মানুষকে জীবিত অবস্থাতেই প্রয়োজন। তাই জীবিত মানুষ দাসত্বে নয়, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চায়। এজন্য সে দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

৩.২ “স্বাধীনতা একটা শক্তিশালী বীজপ্রবাহ।”

উত্তর: প্রখ্যাত মার্কিন কবি ল্যাংস্টন হিউজ রচিত ‘স্বাধীনতা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত এই পঙ্ক্তিতে স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এখানে স্বাধীনতাকে একটি শক্তিশালী বীজপ্রবাহ বলা হয়েছে।

বীজের মধ্যেই থাকে অঙ্কুরোদগম ও বৃক্ষ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা। আলো, জল ও তাপের সংস্পর্শে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমে শাখা-প্রশাখা, ফুল-ফলে সমৃদ্ধ হয়। একইভাবে স্বাধীনতাই হলো জাতি ও রাষ্ট্রের উন্নতির প্রধান শর্ত।

একটি জাতি পরাধীন থাকলে তার আত্মমর্যাদা ও বিকাশ রুদ্ধ হয়। কিন্তু স্বাধীনতা তাকে নবজীবন দেয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ সঞ্চারিত করে। তাই কবি স্বাধীনতাকে “একটা শক্তিশালী বীজপ্রবাহ” বলেছেন।

৩.৩ “আমাদেরও তো অন্য সকলের… জমির মালিকানার।”

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজের ‘স্বাধীনতা’ কবিতার আলোচ্য অংশে ‘আমাদের’ বলতে বোঝানো হয়েছে পরাধীন ও পদানত জাতিকে। যেমন বিজয়ী ও ক্ষমতাশালী মানুষের অধিকার থাকে, তেমনই পরাধীন মানুষেরও অধিকার রয়েছে নিজের জন্মভূমিতে আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়াবার এবং সামান্যতম সম্পদ ও জমির মালিক হওয়ার।

এই উদ্ধৃতাংশে কবি মূলত মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রাথমিক চাহিদার কথা বলেছেন। পরাধীন অথচ আত্মসচেতন মানুষের কাছে বশ্যতা ও অপমান অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। শাসকগোষ্ঠী এই দাবিকে উপেক্ষা করে, ফলে ক্ষোভ জমে গিয়ে বিদ্রোহ ও সামাজিক বিপ্লবের পথ প্রশস্ত হয়।

৩.৪ “স্বাধীনতা আমার প্রয়োজন / তোমার যেমন।”

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজ রচিত ‘স্বাধীনতা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত এই পঙ্ক্তিতে সমঅধিকারের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

এখানে ‘আমার’ বলতে বোঝানো হয়েছে পরাধীন, পদানত মানুষকে, আর ‘তোমার’ বলতে বোঝানো হয়েছে শাসক বা বিজয়ী শক্তিকে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন—স্বাধীনতা কারও একক সম্পদ নয়। শাসকের যেমন প্রয়োজন, তেমনি শোষিত মানুষেরও সমানভাবে প্রয়োজন।

কবিতার শেষাংশে এই উক্তির মধ্যে দিয়ে মুক্তিকামী মানুষ শাসকশক্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এটি কেবল একটি আর্তনাদ নয়, বরং আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ও ঘোষণা।

৪. নীচের প্রতিটি শব্দের ব্যাসবাক্য-সহ সমাস নির্ণয় করো :

৪.১. স্বাধীনতা

উত্তর: নিজের অধীনতা (কর্মধারয় সমাস)

৪.২. দু-কাঠা

উত্তর: দুই কাঠার সমাহার (দ্বিগু সমাস)

৪.৩. আগামীকাল

উত্তর: আগামী যে কাল (কর্মধারয় সমাস)

৪.৪. বীজপ্রবাহ

উত্তর: বীজের প্রবাহ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)

৫. স্বাধীনতা নিয়ে লেখা আরও দুটো কবিতার উল্লেখ করো এবং এই কবিতার সঙ্গে তাদের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর: স্বাধীনতা নিয়ে লেখা আরও দুটি কবিতা হল—
১) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘স্বাধীনতা’ এবং
২) শামসুর রহমান রচিত ‘প্রিয় স্বাধীনতা’।

ল্যাংস্টন হিউজের ‘স্বাধীনতা’:

(i) কবিতাটি উত্তম পুরুষে রচিত।
(ii) এতে সমগ্র বিশ্ববাসীর আবেদন রয়েছে। অর্থাৎ কাব্যভাবনা দেশ-কাল-সমাজের মধ্যে আবদ্ধ নয়।
(iii) এই কবিতায় পরাধীন জাতি এবং শাসক শক্তি উভয়পক্ষের কথা এসেছে।
(iv) এতে শুধুই পরাধীন মানুষের স্বাধীনতার স্বপ্ন ব্যক্ত হয়েছে।
(v) গদ্যছন্দে রচিত হলেও অন্ত্যমিল বা লালিত্য অনুপস্থিত থেকেও মাধুর্য বজায় আছে।
(vi) শুধু দেশের স্বাধীনতাই নয়, বরং ব্যক্তির অধিকার, আত্মশক্তি ও জীবিত অবস্থায় মান-মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের কথাও বলা হয়েছে।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’:

(i) কবিতাটি উত্তম পুরুষে রচিত।
(ii) এতে পরাধীন ভারতবাসীর স্বদেশচেতনা ফুটে উঠেছে।
(iii) অন্ত্যমিল-যুক্ত ছন্দ কবিতার গভীর মাধুর্য রক্ষা করেছে।
(iv) ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

শামসুর রহমানের ‘প্রিয় স্বাধীনতা’:

(i) কবিতাটি উত্তম পুরুষে রচিত।
(ii) এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বপ্ন ফুটে উঠেছে।
(iii) এতে পরাধীন মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ব্যষ্টিভাবে ধরা পড়েছে।
(iv) অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দ কবিতাটিকে সঙ্গীতধর্মী মাধুর্য দিয়েছে।
(v) আন্দোলনের তীব্রতা নয়, বরং রোমান্টিক দেশপ্রেম এখানে গাঢ় রূপ নিয়েছে।

আরও দেখো: জেলখানার চিঠি প্রশ্ন উত্তর

স্বাধীনতা কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর / অষ্টম শ্রেণী বাংলা

১. কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু কী?
ক) প্রেম
খ) স্বাধীনতা
গ) দুঃখ
ঘ) প্রকৃতি

উত্তর: খ) স্বাধীনতা

২. কবিতার কবি কে?
ক) শামসুর রহমান
খ) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) ল্যাংস্টন হিউজ
ঘ) জীবনানন্দ দাশ

উত্তর: গ) ল্যাংস্টন হিউজ

৩. এই কবিতাটি কারা বাংলায় অনুবাদ করেছেন?
ক) সেলিনা হোসেন ও শামসুর রহমান
খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল গুহ
গ) বুদ্ধদেব বসু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য ও জীবনানন্দ দাশ

উত্তর: খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল গুহ

৪. স্বাধীনতা কবে আসবে না বলে কবি জানান?
ক) ভয় বা সমঝোতার মধ্যে
খ) যুদ্ধ জয়ের পর
গ) মৃত্যুর পরে
ঘ) ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে

উত্তর: ক) ভয় বা সমঝোতার মধ্যে

৫. কবি স্বাধীনতাকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
ক) স্বপ্ন
খ) গান
গ) শক্তিশালী বীজপ্রবাহ
ঘ) আগুন

উত্তর: গ) শক্তিশালী বীজপ্রবাহ

৬. কবির মতে স্বাধীনতা কার প্রয়োজন?
ক) কেবল ধনীদের
খ) কেবল রাজনীতিবিদদের
গ) সবার সমান
ঘ) কেবল গরিবদের

উত্তর: গ) সবার সমান

৭. কবিতায় “দুপায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার” অর্থ কী?
ক) নাচগান করা
খ) নিজস্ব অধিকার নিয়ে বাঁচা
গ) অন্যের উপর নির্ভর করা
ঘ) ভ্রমণ করা

উত্তর: খ) নিজস্ব অধিকার নিয়ে বাঁচা

৮. কবির মতে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি কী দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয়?
ক) ‘আজই হবে’ বলে
খ) ‘কাল একটা নূতন দিন’ বলে
গ) ‘স্বাধীনতা নেই’ বলে
ঘ) ‘ভবিষ্যতে অসম্ভব’ বলে

উত্তর: খ) ‘কাল একটা নূতন দিন’ বলে

৯. কবি মৃত্যুর পর স্বাধীনতা কেন অপ্রয়োজনীয় বলেছেন?
ক) তখন মানুষ বেঁচে থাকে না
খ) তখন অনেক কষ্ট হয়
গ) তখন আবার জন্ম হয়
ঘ) তখন মানুষ খুশি থাকে

উত্তর: ক) তখন মানুষ বেঁচে থাকে না

১০. কবি স্বাধীনতাকে কিসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন?
ক) বেঁচে থাকার প্রয়োজনের সঙ্গে
খ) যুদ্ধের সঙ্গে
গ) আনন্দের সঙ্গে
ঘ) খেলাধুলার সঙ্গে

উত্তর: ক) বেঁচে থাকার প্রয়োজনের সঙ্গে

১১. “শুনে শুনে কান পচে গেল”—এখানে কবির অভিযোগ কী নিয়ে?
ক) প্রেমের গল্প শুনে
খ) স্বাধীনতার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনে
গ) যুদ্ধের কাহিনি শুনে
ঘ) রাজাদের ইতিহাস শুনে

উত্তর: খ) স্বাধীনতার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনে

১২. কবি স্বাধীনতাকে কিসের সমান গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন?
ক) আগামী দিনের রুটি
খ) মৃত্যুর পরের শান্তি
গ) প্রেম ও বন্ধুত্ব
ঘ) ধর্মীয় আচার

উত্তর: ক) আগামী দিনের রুটি

১৩. কবির মতে স্বাধীনতা কেন বর্তমানেই প্রয়োজন?
ক) কারণ ভবিষ্যতে তা আসবে না
খ) কারণ মৃত্যু পর তা অর্থহীন
গ) কারণ এখনই বেঁচে থাকার জন্য দরকার
ঘ) উপরোক্ত সবগুলোই

উত্তর: ঘ) উপরোক্ত সবগুলোই

১৪. কবি নিজেকে কার সঙ্গে যুক্ত করে স্বাধীনতার দাবি করেছেন?
ক) প্রকৃতির সঙ্গে
খ) অন্য মানুষের সঙ্গে
গ) রাজনীতিবিদদের সঙ্গে
ঘ) ধর্মের সঙ্গে

উত্তর: খ) অন্য মানুষের সঙ্গে

১৫. কবিতার বার্তা কী?
ক) স্বাধীনতা ভবিষ্যতের স্বপ্ন
খ) স্বাধীনতা মৃত্যুর পরের প্রাপ্তি
গ) স্বাধীনতা বর্তমানেই প্রয়োজনীয় অধিকার
ঘ) স্বাধীনতা ধনীদের সম্পদ

আরও দেখো: সুভা গল্পের প্রশ্ন উত্তর

উত্তর: গ) স্বাধীনতা বর্তমানেই প্রয়োজনীয় অধিকার

স্বাধীনতা কবিতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর / অষ্টম শ্রেণী বাংলা

১. “স্বাধীনতা কোনোদিনই আসবে না” কবির এমন ধারণা হয়েছিল কেন?

উত্তর: ‘স্বাধীনতা’ কবিতার কবি ল্যাংস্টন হিউজ মনে করেন, স্বাধীনতা মানুষের এমন এক অধিকার যা অর্জন করতে হলে চাই তীব্র আন্দোলন ও সংগ্রাম। ভয় বা সমঝোতার পথে স্বাধীনতা আসবে না। শাসক ও শোষকের দেওয়া ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাসেও স্বাধীনতা পাওয়া যায় না। তাই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয়।

২. মৃত্যুর পরে কীসের প্রয়োজন হবে না?

উত্তর: ‘স্বাধীনতা’ কবিতায় কবি বলেছেন, মৃত্যুর পরে মানুষের আর স্বাধীনতার প্রয়োজন হবে না।

৩. ‘স্বাধীনতা’ কবিতায় মৃত্যুর পর স্বাধীনতার প্রয়োজন হবে না বলে কবি মনে করেন কেন?

উত্তর: স্বাধীনতা মানুষের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়। মানুষ জীবিত থাকলেই নিজের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। মৃত মানুষের জীবনের কোনো লক্ষণ নেই, তাই স্বাধীনতারও প্রয়োজন নেই। বেঁচে থাকতেই স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। তাই কবির মতে মানুষের মতো বেঁচে থাকা ও স্বাধীনতা ভোগ করা একই সঙ্গে জরুরি।

৪. “আমিও তো সেখানেই বাস করি,/ তুমি যেখানে,” — বাস করার অর্থ কী? উদ্ধৃতাংশের অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এখানে বাস করার অর্থ হলো বেঁচে থাকা। পৃথিবীতে সকল মানুষ যেখানে-ই থাকুক না কেন, সবাই মানুষের মতো বেঁচে থাকতে স্বাধীনতার প্রয়োজন অনুভব করে। কবি বলতে চান, তুমি-আমি সবাই মানুষ, তাই আমাদের সবারই সমানভাবে স্বাধীনতার প্রয়োজন।

৫. স্বাধীনতা কবিতায় কবির স্বাধীনতাবোধের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর: ল্যাংস্টন হিউজ মনে করেন, মানুষ জন্ম থেকেই স্বাধীনতার অধিকারী। জাতির উন্নতি, মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। অন্যের পদানত হয়ে কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না। তাই কবির মতে, ভয় বা আপসের পথে নয়, সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়।

৬. স্বাধীনতালাভের প্রধান শর্তগুলি কী?

উত্তর: ভয়কে পরাস্ত করতে হবে।
শোষকের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা যাবে না।
নিজের অধিকারের দাবি দৃঢ়ভাবে তুলতে হবে।
ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাসে বসে থাকলে চলবে না।
আজকের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মেটাতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনতা কবিতার সারসংক্ষেপ প্রশ্ন উত্তর / অষ্টম শ্রেণী বাংলা

প্রখ্যাত মার্কিন কবি ল্যাংস্টন হিউজের ‘স্বাধীনতা’ কবিতায় স্বাধীনতার জন্য সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। কবি বলেছেন, ভয় বা সমঝোতার পথে কোনোদিন স্বাধীনতা আসে না। বিজয়ী ও পরাজিত উভয়েরই রয়েছে সমান অধিকার—নিজের জমিতে দাঁড়িয়ে থাকার, নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচার। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে পদানত মানুষের ধৈর্য ফুরিয়েছে; তারা আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়। কবির মতে, মৃত্যুর পরে স্বাধীনতার কোনো প্রয়োজন নেই; যেমন আগামী দিনের রুটি দিয়ে আজ বাঁচা যায় না। তাই স্বাধীনতা এখনই চাই। কবি স্বাধীনতাকে ‘শক্তিশালী বীজপ্রবাহ’ বলেছেন—যার ভেতরে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ সমাজজীবনের সম্ভাবনা। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্বাধীনতা মানুষের অপরিহার্য অধিকার।

আরও দেখো: ঘুরে দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল: TextbookPlus

টেলিগ্রাম গ্রুপ: GhoshClass

Facebook Group: TextbookPlus

CLOSE

You cannot copy content of this page